The Lord of the Rings ট্রিলজি পাঠ

(সতর্কতা: স্পয়লার)
দ্যা লর্ড অব দ্য রিঙস
ট্রিলজির তিনটি সিনেমার কথা কে না জানে? এই তিনটি সিনেমার একটা বৈশিষ্ট্য হলো সবার সময়দৈর্ঘ্যই সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টার মতো। সাধারণত ইংরেজি ছবি এতো বড়ো হয় না, সর্বোচ্চ দেড়-দুই ঘন্টা। এতো সময় নিয়ে তিনটি ছবি দেখে বোঝাটা তেমন একটা সহজ নয়। প্রথম দেখার সময় আমিও বুঝতে পারিনি। তখন পড়ি ক্লাস নাইন কি টেনে (২০০৪ বা ২০০৫)। না বুঝলেও দেখে ট্রিলজি শেষ করেছিলাম। তখন মুভি জোগাড় করা এতো সহজ ছিলো না, পেনড্রাইভেও অন্যদের কাছ থেকে জোগাড় করা যেত না আর ইন্টারনেট থেকে মুভি নামানো ছিলো বিলাসিতা (তখন ইন্টারনেট জিনিসটাই ছিলো বিলাসিতা)। তাই দাঁতে দাঁত চেপে মুভি তিনটা দেখে শেষ করি। অবশ্য সিনেমার বিভিন্ন ইফেক্ট, মারামারির দৃশ্যগুলো :p আর ফ্যান্টাসি জগতের বিভিন্ন ডিটেইল অ্যানিমেশন ভালো লেগেছিলো।

২০১২ সালে সৈকত ভাই (আমার বড় ভাই) J. R. R. Tolkien-র এই ট্রিলজির পেপারব্যাক বই চীন থেকে নিয়ে আসে। তখন মনে হয় নি যে কখনো এই তিনটা দশাশই বই পড়বো (সব মিলিয়ে দেড় হাজার পৃষ্ঠার মতো)। কিন্তু এ বছরের শুরুর দিকে অনেকটা হঠাৎ করেই পড়া শুরু করে দেই (২০১৪)। শেষও হয়ে যায় একের পর এক, প্রথমে The Fellowship of the Ring, দুই নম্বর The Two Towers ও শেষে The Return of The King। একটা করে বই পড়ি আর সিনেমাটা দেখি। একই সময় ল্যাবে থিসিস-বন্ধু 😉 সান্তনু আর ভাইয়ার সাথে এ ট্রিলজি নিয়ে কিছু খন্ড খন্ড আড্ডা হয়। ট্রিলজি পড়া, সিনেমা আবার দেখা আর আড্ডার মাধ্যমে মাথায় জড়ো হওয়া ভাবনাগুলো লিখে রাখি।
গল্পের বয়ান — একটি সুবিশাল প্রেক্ষিত
এই উপন্যাসের পটভূমি হলো মিডলআর্থ নামের এক কাল্পনিক মহাদেশকে ঘিরে। বহু আগে এক কালো শক্তি, সাউরন, সমগ্র মিডলআর্থকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করেছিলো অনেকগুলো শক্তিধর আঙটি। সে আঙটিগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য আবার তৈরি করে আরেকটা আঙটি, দ্য রিঙ। এই আঙটিটা মহাশক্তিধর। কিন্তু সাউরনের কাছ থেকে আঙটিটা হারিয়ে যায়, বহু হাত ঘুরে সেটা আসে বিলবোর কাছে; কিভাবে সে গল্প বলা হয়েছে দ্য হবিট উপন্যাসে। দ্য লর্ড অব দ্য রিঙস ট্রিলজিটা শুরু হয় অনিচ্ছুক বিলবোর মাধ্যমে ফ্রোডোর কাছে হঠাৎ করে আঙটিটা চলে আসার মাধ্যমে। ফ্রোডো একজন হবিট; আর হবিটরা ঘরকুনো, ওরা নিজেরা নিজেদের মতো আলাদা থাকতেই পছন্দ করে, দুনিয়াতে কি হলো না হলো সে নিয়ে তেমন কোন মাথাব্যাথা নেই। কিন্তু ফ্রোডোকে এই আঙটি নিয়ে যেতে হবে রিভেনডেল নামের একটা জায়গায়। সেখানে থাকেন এলফেরা। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন এ আঙটিটা কি করা হবে। পরে রিভেনডেলে একটা সভা হয় যেখানে ছিলো জাদুকর গান্ডাল্ফ এবং মানুষ, এল্ফ, হবিট ও ডোয়ার্ফদের প্রতিনিধি। লেখক মিডলআর্থে মানুষ ছাড়াও অন্য জাতি কল্পনা করেছেন। প্রত্যেকেরই আছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ইতিহাস, দোষ আর গুণ। রিভেনডেলের সভায় আঙটিকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়; কারণ পরমক্ষমতা বড় বিপজ্জনক জিনিস। কিন্তু কে ধ্বংস করার দায়িত্ব নেবে? মানুষ, এল্ফ ও ডোয়ার্ফরা পরস্পর সন্দেহে ভুগছিলো — আঙটি তো মহাশক্তিশালী, যদি আঙটির বাহক এই শক্তির লোভে জিনিসটা ধ্বংস না করে ব্যবহার করা শুরু করে? পরে ফ্রোডোকে আঙটির বাহক ঠিক করা হয়; সাথে থাকে মানুষ, এল্ফ ও ডোয়ার্ফদের প্রতিনিধি। সবাই মিলে একটি দল, ফেলোশিপ গঠন করে। যাত্রা শুরু হয় এক আগ্নেয়গিরির দিকে — মাউন্ট ডুম; যে অঞ্চলে আবার কালো শক্তি সাউরনের বসবাস। ঘটনাক্রমে ফেলোশিপ ভেঙে যায়, ফ্রোডো আর বাকি সহযাত্রীদের যাত্রাপথ আলাদা হয়ে পড়ে। সাউরামন নামের আরেক জাদুকর সাউরনের সাথে হাত মেলায়। দুই বন্ধু দুই ভিন্ন দিক থেকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। মিডলআর্থের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিদের পক্ষবিপক্ষ, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে গল্প এগোয়। প্লটটা তখন দাবা খেলার মধ্যবর্তী সময়ের মতো একটা অবস্থায় চলে আসে যখন দুই পক্ষই তাদের বিভিন্ন গুঁটি ছকের বিভিন্ন জায়গায় বিন্যস্ত করে একটা মুখোমুখি অবস্থায় চলে যায়। ছকের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছু আঞ্চলিক সংঘর্ষ হয়; প্রতিটি যুদ্ধেই খুব বিচিত্রসব জাতির লোকজন দুই পক্ষে ভাগাভাগি হয়ে যায়। উপন্যাসের শেষেরদিকটা চমকপ্রদ – গান্ডাল্ফ ফেলোশিপের অন্যান্যদের সাথে নিয়ে, অন্যান্য জাতির সৈনিকদের জড়ো করে সাউরনের সাথে সমরে লিপ্ত হয়; অন্যদিকে ফ্রোডো তার সহচর স্যামকে সাথে নিয়ে পিছন থেকে খুব গোপনে সাউরনের এলাকাতে ঢোকে পড়ে। সাউরন যেহেতু যুদ্ধের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, সে ভাবতেও পারে নি আঙটি নিয়ে কেউ এভাবে ঢুকতে পারে তারই মুল ঘাঁটিতে। শেষে ফ্রোডো অনেক কষ্টে স্যামের সাহায্যে মাউন্ট ডুমের আগ্নেয়গিরির চূড়ায় উঠে শেষ মুহূর্তে আঙটির লোভ সামলাতে পারে না, সিদ্ধান্ত নেয় সেই হবে আঙটির মালিক; কিন্তু তার আরেক প্রতিযোগী গোলাম শেষ আক্রমণ করে ফ্রোডোকে। গোলাম কেড়ে নেয় আঙটিটি, কিন্তু ভারসাম্য রাখতে না পরে সে আঙটিসহই পড়ে যায় আগ্নেয়গিরির গভীরে। ধ্বংস হয় সাউরন।

 

গোলাম বনাম স্মিগোয়েল
দ্য লর্ড অব দ্য রিঙস মুভিটি যারা দেখেছেন, গোলাম চরিত্রটার কথা তারা সহজে ভুলতে পারবেন না। এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গোলাম। গোলাম এককালে মানুষ ছিলো, তার নাম ছিলো স্মিগোয়েল। অতীতে একসময় সে আঙটিটি বহন করতো। আঙটি ছিলো তার Precious, মূল্যবান মানিক। আঙটির অনেক ক্ষমতার মধ্যে একটা হলো তার বাহক কখনোই মরে না। তাই স্মিগোয়েলও দীর্ঘজীবন লাভ করে। কিন্তু জীবনযাপনের বেপরোয়া ধরনের কারণে সে খুব কদাকার হয়ে পড়ে দেখতে। এ উপন্যাসে গোলাম ফ্রোডোকে অনুসরণ করে দীর্ঘপথ। তার উদ্দেশ্য আবার আঙটিটি হাত করা; আঙটিটি যে তার Precious। এ দিকে ফ্রোডো গোলামের কথা আগেই জানতো, তার মতে বিলবোর উচিত ছিলো প্রথম সুযোগেই গোলামের মতো কদাকার জন্তুকে মেরে ফেলা। তবে জাদুকর গান্ডার্ফের মতে মৃত্যু কার হওয়া উচিত কার হওয়া উচিত নয় এ সিদ্ধান্ত মানুষের আওতাধীন নয়; হয়তো গোলামের এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু করা বাকি রয়ে গেছে। উপন্যাস এগুলে দেখা যায় প্রথমে গোলাম অন্য বন্ধুদের কাছ থেকে ছিটকে যাওয়া ফ্রোডোর কাছ থেকে আংটিটি কেড়ে নিতে চাইলেও ফ্রোডো মিস্টি-কড়া ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে বশ করে, গোলাম পোষ মেনে যায়। আসলে গোলামের মধ্যে দুইটি ভিন্ন স্বত্তা রয়েছে, একজন স্মিগোয়েল, যে মোটামুটি ইতিবাচক, কথা দিয়ে কথা রাখতে চায়, কিঞ্চিত ভীতু। আর অন্য স্বত্তা হলো গোলাম; গোলাম লোভী, নীচ, কাউকে বিশ্বাস করে না। গোলামের একটাই লক্ষ্য – যে কোন ভাবেই হোক আঙটিটি দখলে নিয়ে আসা। ট্রিলজির ‘দ্য টু টাওয়ারস’ বইটাতে দেখা যায় যে স্মিগোয়েল ফ্রোডো ও তার সহচর স্যামকে মর্ডর নামের অঞ্চলে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে। একটা বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে, ঔপন্যাসিক হয়তো গান্ডার্ফের গোলামের মৃত্যু হওয়া উচিত নয় কি না বিষয়ক যে মতামত, তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন স্মিগোয়েলের (বা গোলামের) ফ্রোডোকে পথপ্রদর্শন করা এবং শেষে যখন ফ্রোডোর নেতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলাফলকে উল্টিয়ে দিয়ে। আগেই বলেছি, ফ্রোডো লোভ সামলাতে না পেরে আংটি নিজেই দখলের সিদ্ধান্ত নেয়, সে সময় ফ্রোডোকে আক্রমণ করে গোলাম আংটির দখল নিয়ে নিলেও শেষে পা ফসকিয়ে পড়ে যায় মাউন্ট ডুম আগ্নেয়গিরির টগবগে লাভায়। এর মাধ্যমে হয়তো ঔপন্যাসিক নেতির নেতি (বীজগণিতের মাইনাসে মাইনাসে প্লাস নিয়ম) ঘটনাপরম্পরার দেখিয়েছেন। ফ্রোডো ও গোলামের লোভ পরস্পরকে প্রশমিত করে দিলো। এ ট্রিলজিটিতে গোলাম বনাম স্মিগোয়েলের দ্বন্দ্বটা বেশ লক্ষ্যনীয়। এই দ্বন্দ্বটাকে কি আমরা মানুষের চরিত্রের দুইটি বিপরীত দিকের বিকৃত কার্টুন হিসেবে গণ্য করতে পারি? হয়তো প্রতিটা মানুষের মাঝেই একজন গোলাম ও তার বিপরীতে একজন স্মিগোয়েল আছে।

 

 

ফ্রোডো: জিরো থেকে হিরো?
উপন্যাসের শেষে ফ্রোডো (ও স্যাম) আঙটি ধ্বংসের মাধ্যমে সফল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়। কিন্তু ফ্রোডো কখনই ভাবে নি যে চরম-শক্তিধর আঙটিটি ধ্বংসের কঠিন দায়িত্ব তার উপরই পড়বে, তাকে যেতে হবে বিপদজ্জনক সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে, নিতে হবে অপ্রিয় সিদ্ধান্ত। ফ্রোডো গান্ডার্ফকে বলছে সে বরং ফিরে যেতে চায় তার প্রিয় শান্ত গ্রামে, পুরনো নিস্তরঙ্গ জীবন-যাপনে। জাদুকর গান্ডার্ফ তখন বলে, আমরা কি ধরনে ঘটনার মধ্যে দিয়ে যাবো, নতুন পরিস্থিতি কখন কোন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে আমাদের সামনে — সে নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। তবে আমাদের হাতে একটা ক্ষমতা আছে। সেটা হলো কোন নির্দিষ্ট সময়, নতুন ভিন্ন পরিস্থিতি ও বিপদে আমরা কি করবো কিংবা কি করবো না; কাদের পক্ষ নেবো বা নেবো না, কোন রাস্তায় যাবো কি যাবো না তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। এটাই আমার কাছে ভালো লেগেছে। কখন অভ্যস্ত-জীবনে আচমকা কোন পরিবর্তন আসে সেটা তো আমাদের জানা নেই। কিন্তু যেটা করতে পারি নতুন পরিস্থিতিতে, তা হলো কি করবো কি করবো না তার সিদ্ধান্ত নেয়া — আর কাজটা করা। ফ্রোডো ঠিক সেই কাজটিই করেছে। উপন্যাসে এটা পরিস্কার যে শেষ পর্যন্ত ফ্রোডোর মধ্যে আঙটির লোভ কাজ করে গেছে। শেষে ফ্রোডো নিজেকে সামলাতে পারে নি, তবু ঘটনাক্রমে আঙটি ধ্বংস হয়। কিন্তু ফ্রোডো যে এতটা পথ হেঁটে এসেছিলো কঠিন দায়িত্ব বহন করে এর পেছনে ছিলো ওই ছোট ছোট অজস্র সিদ্ধান্ত নেয়া; করা কিংবা না করা; পথে হাঁটা অথবা ফিরে যাওয়া।

 

ইচ্ছেপুরণের গল্প?
রূপকথার গল্প যেভাবে শেষ হয়, রাজপুত্র ও রাজকন্যা অবশেষে বিয়ে করে আজীবন সুখশান্তিতে বসবাস করতে লাগলো, অনেকটা তেমনি এই ট্রিলজিটা শেষ হয়েছে। ফ্রোডো সহ অন্যরা শক্তিধর আঙটি ধ্বংস করে শেষে যে যার নিজেদের এলাকায় ফিরে যায়। অপশক্তি ধ্বংস হয়। যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে সবাই আবার নতুন করে নিজেদের ঘর-বাড়ি-স্থাপনা ঠিক করা শুরু করে। এই সমাপ্তটা দেখে মনে হয় লেখক ইচ্ছেপুরনের গল্প লিখেছেন। বাস্তবে কি সত্যিই এমন হয়? অপশক্তির পতন কি হয়? সবাই কি সুবিচার পায়? অনেক কষ্ট ভোগ করার পর ভুক্তভোগী কি সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকেন? যেমন, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো। মুক্তিযোদ্ধারা সে যুদ্ধে জয়লাভ করার পরেও কি এখন সুখে না হোক, মানসিক শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন? উপন্যাসের একটা বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে ঔপন্যাসিক কোন পটভূমিতে ঘটা জটিলতাকে Simulate বা অনুকরণ করেন; কিংবা বলা যায় আয়নার মতো ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেন। বাস্তবতা এর চেয়েও জটিল। দ্য লর্ড অব দ্য রিঙ-এ ঘটনা যেভাবে শেষ হয়েছিলো, সত্যি সত্যি পৃথিবীতে এমনটা ঘটলে হয়তো শেষটা এমন নাও হতে পারতো।

 

চরমক্ষমতা আর লোভ – উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়?
আঙটিটিকে আমার মনে হয়েছে চরমক্ষমতার প্রতিফলন। সবাই এ আঙটি পেতে চায় নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য। এমনকি অন্যতম খলনায়ক, জাদুকর সাউরামন, যে হাত মিলিয়েছিলো অপশক্তি সাউরনের সাথে — তার মাঝেও আঙটিটি নিজের বাগে আনার লোভটা পরিস্কার। এই ক্ষমতার লোভই উপন্যাসের প্লটটাকে গড়ে তুলতে মূখ্যভূমিকা পালন করেছে। যেমন এই দুনিয়াতেও রাজনৈতিক শক্তিরা ক্ষমতারই পূজা করে। এমন না যে রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় থেকে অনেক আরামে থাকেন। হয়তো তারা অনেক বিলাস ও নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে যান কিন্তু আর যাই হোক, আরামে থাকতে পারেন না। বরং রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে রাষ্ট্রপরিচালনার অজস্র খুঁটিনাটি অপ্রিয় কাজ থেকে ছাড় পায় না তারা। কিন্তু ওই যে, ক্ষমতার গরম; ওই গরমের সান্নিধ্য পাওয়াটাই তাদের জীবনের ধ্যানজ্ঞান; এ গরমটা তাঁরা খুব উপভোগ করেন নানাভাবে প্রভাববিস্তারের মাধ্যমে, আইনকে পাশ কাটিয়ে, শক্তি প্রদর্শন করে। এর পেছনে ইগো-একটা মূখ্য ভূমিকা পালন করে। With ultimate power, comes the ultimate corruption। সুতরাং সেই অসীম শক্তি ধ্বংস করার জন্যে একটা বিপরীত পক্ষকে কাজ করতে হবে। এখানে ফ্রোডো, ফেলোশিপসহ অন্যান্যরা এই বিপরীত পক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।


Comments

2 responses to “The Lord of the Rings ট্রিলজি পাঠ”

  1. This review: not satisfier

  2. ট্রিলজির খুব বড় একটা অংশ ‘যুদ্ধ’। খুবই দক্ষতার সাথে এই দিকটা ওঠে এসেছে। আর এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে লেখকের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ খুব প্রভাব রেখেছে লর্ড অব দ্যা রিংস এ। কিছু অভিজ্ঞতা ও তার ইতিবাচক ফিডব্যাক উপযুক্ত সম্মিলন আমাদেরকে দারুণ কিছু দিতে পারে। যেমন দিয়েছেন টলকিন।

Leave a Reply to Sirajam Monir Shraban Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *