বাঁশিতে “বড়ো আশা করে এসেছি গো”

মাস্টার্স শেষ, থিসিস শেষ, রেজাল্টের জন্য বসে আছি, তিন মাস হয়ে গেলো এরপর, রেজাল্ট দিবে দিবে করেও দিচ্ছে না। এদিকে অনেকগুলো সার্কুলার ফসকে গেল। অন্যদিকে কিছুই ঠিক মতো গোছাতে পারছিনা, জিআরইর প্রস্তুতি নেয়া দরকার, কিন্তু পড়াশুনা একেবারে শিকোয়, লেখালেখিও হচ্ছে না; সাপ্তাহিক একটা পরিকল্পনা করি, তারো কোন বাস্তবায়ন হয় না তেমন একটা। সবমিলিয়ে খুব খারাপ সময়। অস্থির।

এর মধ্যে একটু নির্ভাবনা পাই বংশী বাজায়ে। দুই মাস হলো মুর্তজা কবীর মুরাদের কাছে বাঁশি শেখা শুরু করছি। আবার। প্রায় বছর-দুই বিরতীর পর। উনি মূলত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত বাজাতে শেখান। এর মধ্যে বিলাবলের একটা আলাপ-বিস্তার-তানসহ বন্দেশ  আর শিবরঞ্জনীর একটা ধুন তোলা হয়েছে। এখন বৃন্দাবনী সারঙ তোলার প্রশিক্ষণ চলছে। ওস্তাদ ভালো শিক্ষক, অনেক শেখাতে চান, তিনি বাঁশিও বানান। প্রথমে যখন তাঁর কাছে আমার পুরানো বাঁশি গুলো নিয়ে গিয়েছিলাম, দেখা গেলো, কোনটাই সঠিক টিউনে নেই। পরে আমার জন্যে তিনি একটা জি স্কেলের বাঁশি বানালেন। কাস্টম ইন্সট্রুমেন্ট বলে যাকে। ফাইন-টিউনিং হলো। অবশেষে আমি একটা চমৎকার বাঁশির অধিকারী হলাম।

বাসায় রেওয়াজের জন্য অডাসিটিতে তানপুরা-তবলা ট্র্যাক চালাতাম। মধ্যখানে ভাবলাম রেকর্ড  করি। সে কি দূর্দশা রেকর্ডের। শব্দের অবস্থা খুবই খারাপ। পরে কাজ চালানোর মতো একটা মিনিমাল রেকর্ডিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করা গেছে। এ ব্যাপারে হাসিব ভাই অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। তানপুরা জোড়া দিয়ে ‘বড় আশা করে এসেছি’ গানটা রেকর্ডিং করলাম। গানটা সহজ। ছোট। গভীর। গম্ভীর। অনুনয়ের। প্রার্থনার।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *